বিশ্ব জরুরি পরিষেবা দিবস উপলক্ষে সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরে মণিপাল হসপিটালস ইস্ট তাদের নতুন জরুরি পরিষেবা উদ্যোগ “ওয়ান স্ক্যান ক্যান সেভ আ লাইফ” চালু করল। প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা, যেমন ডাঃ ইন্দ্রনীল দাস, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও এইচওডি – অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি কেয়ার, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস; ডাঃ সুজয় দাস ঠাকুর, কনসালট্যান্ট ও ইন-চার্জ – ইমার্জেন্সি মেডিসিন, মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুর এবং ডাঃ কিশেন গোয়েল, কনসালট্যান্ট ও এইচওডি – ইমার্জেন্সি, মণিপাল হসপিটাল ব্রডওয়ে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আসন্ন বাংলা ছবি “ফুলপিশি অ্যান্ড এডওয়ার্ড”-এর অভিনেতারাও। ছবিটি পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় পরিচালক জুটি নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁদের উপস্থিতি এই উদ্যোগকে আরও মানবিক ও আবেগঘন করে তোলে এবং সচেতনতা, প্রস্তুতি ও দ্রুত জরুরি পরিষেবার গুরুত্বের বার্তা আরও জোরালোভাবে পৌঁছে দেয়।
এই উদ্যোগে চালু করা হয়েছে একটি কিউআর-কোড ভিত্তিক জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মানুষ খুব সহজেই অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন, নিজের লাইভ লোকেশন শেয়ার করতে পারবেন এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পেতে পারবেন। বিশেষ করে “গোল্ডেন আওয়ার” অর্থাৎ দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার পরের প্রথম এক ঘণ্টায় দ্রুত চিকিৎসা জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রযুক্তি মণিপাল অ্যাম্বুল্যান্স রেসপন্স সার্ভিস (MARS)-এর সঙ্গে যুক্ত, যার ফলে দ্রুত সমন্বয় ও সময়মতো চিকিৎসা সহায়তা সম্ভব হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি চারজন মৃত্যুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হৃদরোগজনিত কারণে হয়। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো সমস্যা জরুরি হাসপাতালে ভর্তির অন্যতম প্রধান কারণ। গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদরোগের ক্ষেত্রে “গোল্ডেন আওয়ার”-এর মধ্যে চিকিৎসা শুরু হলে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এছাড়াও ভারতে প্রতি বছর প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় সড়ক দুর্ঘটনায়। ট্রমা ও হাড়ের আঘাতজনিত সমস্যা জরুরি চিকিৎসার অন্যতম বড় কারণ।
স্নায়বিক জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে মণিপাল হসপিটালস-এর ডিরেক্টর অ্যান্ড অ্যাডভাইজর এবং রিজিওনাল হেড (ইস্ট) – নিউরোলজি, ডাঃ জয়ন্ত রায় বলেন, “স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই বলা হয় ‘টাইম ইজ ব্রেন’, কারণ স্ট্রোক শুরু হওয়ার পর প্রতি মিনিটে প্রায় ১৯ লক্ষ ব্রেন সেল নষ্ট হতে পারে। চিকিৎসায় দেরি হলে স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা বা মৃত্যুও হতে পারে। তাই দ্রুত উপসর্গ চিনতে পারা, জরুরি পরিষেবার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ এবং রোগীকে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। এতে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত জরুরি পরিষেবা এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্য পরিকাঠামো জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।”
হৃদরোগজনিত জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস-এর ডিরেক্টর ক্যাথ ল্যাব ও সিনিয়র ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ দিলীপ কুমার বলেন, “হৃদরোগের জরুরি অবস্থায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো উপসর্গ শুরু হওয়ার পর হাসপাতালে পৌঁছতে দেরি হওয়া। আতঙ্ক, সচেতনতার অভাব বা দ্রুত যানবাহন না পাওয়ার কারণে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। ‘ওয়ান স্ক্যান ক্যান সেভ আ লাইফ’-এর মতো উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ সহজ করে তোলে। দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স সংযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা পেতে পারেন, যখন প্রতিটি সেকেন্ড খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ মৃত্যুর হার কমাতে এবং রোগীর সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়াতে সাহায্য করবে।”
ট্রমা ও অর্থোপেডিক জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে মণিপাল হসপিটাল ব্রডওয়ে-এর ডিরেক্টর – অর্থোপেডিক্স, ডাঃ দেবাশিস চক্রবর্তী বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনা ও ট্রমাজনিত আঘাত এখনো বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ফ্র্যাকচার, মেরুদণ্ডের আঘাত, মাথায় চোট ও অন্যান্য গুরুতর অর্থোপেডিক সমস্যায় দ্রুত চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কলকাতায় প্রায় ১৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় এবং আরও বহু মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চিকিৎসায় দেরি হলে স্থায়ী অক্ষমতা বা প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ে। দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা ও সঠিক ট্রমা কেয়ার রোগীর জীবন বাঁচাতে এবং দ্রুত সুস্থ হতে বড় ভূমিকা পালন করে। ‘ওয়ান স্ক্যান ক্যান সেভ আ লাইফ’-এর মতো উদ্যোগ এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর।”
এই উদ্যোগ সম্পর্কে ডাঃ ইন্দ্রনীল দাস বলেন, “যে কোনও চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থায় প্রতিটি সেকেন্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় রোগীর কাছে পৌঁছতে বা হাসপাতালে আনতে দেরি হওয়াই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ‘ওয়ান স্ক্যান ক্যান সেভ আ লাইফ’ উদ্যোগটি প্রযুক্তির সাহায্যে জরুরি পরিষেবা আরও সহজ ও দ্রুত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। শুধুমাত্র একটি কিউআর কোড স্ক্যান করেই মানুষ অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন, নিজের লাইভ লোকেশন শেয়ার করতে পারবেন এবং ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পাবেন। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, দুর্ঘটনা বা যে কোনও হঠাৎ শারীরিক সমস্যায় এটি অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে। এই উদ্যোগ শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নয়, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তাও দেয়।”
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলারও লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের মাধ্যমে মণিপাল হসপিটালস ইস্ট জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করে তুলতে চায়।
একটি স্ক্যানেই দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা, নতুন উদ্যোগ মণিপাল হসপিটালস ইস্টের
Date:
Share:

