পূর্ব ভারতের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বেকারি, মিষ্টি ও নমকিন, দুগ্ধজাত, আইসক্রিম এবং আতিথেয়তা শিল্পের অগ্রণী বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) প্রদর্শনী — 23 তম ইন্টারন্যাশনাল ফুডটেক কলকাতা 2026 — আজ সায়েন্স সিটির বিপরীতে অবস্থিত বিশ্ব বাংলা মিলন মেলা প্রাঙ্গণে শুরু হল। বিশিষ্ট অতিথি ও শিল্পমহলের প্রধানদের উপস্থিতিতে উদ্বোধিত এই তিন দিনের প্রদর্শনী 21 থেকে 23 আগস্ট 2026 পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল 10 টা থেকে সন্ধ্যা 6 টা পর্যন্ত চলবে এবং ব্যবসায়িক ও সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত থাকবে।
এই বিশাল প্রদর্শনীতে দেশজুড়ে প্রায় 175টি স্বনামধন্য সংস্থা, পাশাপাশি চ্যানেল পার্টনারদের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড গুলি তাদের পণ্য, প্রযুক্তি ও পরিষেবা তুলে ধরছে। এ বছরের সংস্করণে নেসলে, ব্যারি ক্যালেবো, ডোহলার গ্রুপ, নর্তে ইউরোকোয়া, ইউনক্স, রেগা বেকারি মেশিনস এবং সিনম্যাগ মেশিনারির মতো বিদেশি সংস্থা রয়েছে। তিন দিনে পূর্ব ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে প্রায় 30,000 ব্যবসায়িক দর্শনার্থীর সমাগম প্রত্যাশিত।
ইন্টারন্যাশনাল ফুডটেক কলকাতা 2026-এর আয়োজক এন কে কাপুর অ্যান্ড কোং (প্রা.) লিমিটেড। প্রদর্শনীটি সহযোগিতা পেয়েছে হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া, ওয়েস্ট বেঙ্গল বেকারি এসোসিয়েশন, অল ইন্ডিয়া ফুড প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন, ওয়েস্ট বেঙ্গল বেকার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি, পশ্চিমবঙ্গ মিষ্টি উদ্যোগ, ফ্র্যাগর্যান্সেস অ্যান্ড ফ্লেভারস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া, ইস্টার্ন ইন্ডিয়া কালিনারি অ্যাসোসিয়েশন-সহ অন্যান্য সংস্থার।
এ বছরের অন্যতম আকর্ষণ ‘বেকারি কনক্লেভ ইস্ট’, যা শুক্রবার, 21 আগস্ট 2026 দুপুর 12টা থেকে 2টো পর্যন্ত সেমিনার এরিনা, হল-এ, বিশ্ব বাংলা মিলন মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। ‘বেকারি বিজনেস বিয়ন্ড বেকিং’ ভাবনা কে কেন্দ্র করে এই কনক্লেভ বেকারি পেশাদারদের এক মঞ্চে এনে শুধুমাত্র বেকিং কৌশল নয়, বরং আজকের দিনে একটি বেকারি ব্যবসা গড়ে তোলা ও তার সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি — খরচ, সোর্সিং, খুচরো
বিপণনের ধরন, ব্র্যান্ডিং এবং ক্রেতার রুচির পরিবর্তন — নিয়ে আলোচনা করবে।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন শেফ, রেস্তোরাঁ-ব্যবসায়ী এবং খাদ্য ও পানীয় পরামর্শদাতা শেফ শন কেনওয়ার্দি। বক্তাদের মধ্যে রয়েছেন শেফ বিকাশ কুমার, ডিরেক্টর – ফুড প্রোডাকশন, ফ্লুরিজ; শ্রীমতী নেমিষা ঘিয়া, সিইও, ড্রিম বেকার প্রা. লি.; শেফ অভিরু বিশ্বাস, আতিথেয়তা পরামর্শদাতা; শ্রী মন্টু শর্মা, ডিরেক্টর, সুফল কমার্শিয়াল প্রা. লি.; এবং শেফ অর্শ লখমানি, সহ-প্রতিষ্ঠাতা, কোকোয়া বেকারি, কলকাতা। কনক্লেভে প্রবেশ বেকারি পেশাদার ও প্রদর্শনীর ব্যবসায়িক দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।
“ফুডটেক ফেয়ার আজ পূর্ব ভারতের খাদ্য ও আতিথেয়তা ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিলন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। চ্যানেল পার্টনারদের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী আন্তর্জাতিক নামগুলি-সহ 175টি সংস্থার উপস্থিতি বুঝিয়ে দেয় যে পূর্ব ভারতের বাজার সুস্থ বৃদ্ধির পথে রয়েছে। এ বছর আমাদের লক্ষ্য স্মার্ট, শক্তি-সাশ্রয়ী ও টেকসই প্রযুক্তি — এমন যন্ত্রপাতি ও প্রক্রিয়া যা অপচয় কমায়, খরচ কমায় এবং ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলিকে ও গুণমানের নিরিখে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলে,” বলেন শ্রী জাকির হোসেন, প্রধান আহ্বায়ক, 23 তম ইন্টারন্যাশনাল ফুডটেক কলকাতা 2026।
বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রগুলির অন্যতম ভারতের এই শিল্প ভারত সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে। প্রদর্শনীতে খাদ্যশিল্প ও সংশ্লিষ্ট পরিষেবার সম্পূর্ণ পরিসরের অন্তর্ভুক্ত — খাদ্য ও পানীয়, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম, ফুড প্যাকেজিং, কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা, বেকারি ও কনফেকশনারি সরঞ্জাম, আইসক্রিম তৈরির যন্ত্র ও প্ল্যান্ট, ভোজ্য তেল, মশলা, এসেন্স, রং-সংযোজক, শিল্প-
হিমায়ন, শিল্প-রান্নাঘরের সরঞ্জাম, কাচ ও কাচের সামগ্রী, টেবিলওয়্যার এবং ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মতো সহায়ক পরিষেবা।
তিন দিন জুড়ে থাকছে দৈনিক সেমিনার, প্যানেল আলোচনা, একটি রন্ধন প্রতিযোগিতা ও একটি কেক তৈরির প্রতিযোগিতা, পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রযুক্তির সরাসরি প্রদর্শন। এই জ্ঞান-অধিবেশন গুলো শুধু পণ্য প্রদর্শনে সীমাবদ্ধ না থেকে দর্শনার্থীদের হাতে-কলমে কাজে লাগার মতো তথ্য দেওয়ার লক্ষ্যে সাজানো হয়েছে, যেখানে উপকরণ-উদ্ভাবন ও অটোমেশন থেকে শুরু করে প্যাকেজিং, শেলফ লাইফ ও ব্যবসা বৃদ্ধি পর্যন্ত নানা বিষয় অন্তর্ভুক্ত।

