ইনস্টিটিউট অফ লিডারশিপ, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইলিড) আজ তার ১৬তম প্রতিষ্ঠাতা দিবস উদযাপন করল। এই উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করা হয়। শূন্য কার্বন নিঃসরণ এবং টেকসই সবুজ নকশার ভিত্তিতে নির্মিত এই নতুন ক্যাম্পাস আইলিড-এর পরিকাঠামোগত সম্প্রসারণে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি (মাকাউট)-এর মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক তাপস চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইলিড-এর চেয়ারম্যান শ্রী প্রদীপ চোপড়া, এক্সেকিউটিভ ডিরেক্টর শ্রীমতী প্রজ্ঞা চোপড়া এবং প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ড. নিলয় সরকার।
ফিতা কেটে নতুন ক্যাম্পাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ভাইস চ্যান্সেলর কে নতুন ক্যাম্পাসটি ঘুরিয়ে দেখানো হয়। পরে অতিথি ও শিক্ষার্থীরা নতুন প্রেক্ষাগৃহে সমবেত হন। সেখানে শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত বন্দনা নৃত্য, বিশিষ্ট অতিথিদের সংবর্ধনা এবং আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে দিনটি উদযাপিত হয়।
নবনির্মিত এই সম্প্রসারিত অংশে রয়েছে ১৪টি শ্রেণিকক্ষ, যেখানে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৫০০ জন শিক্ষার্থীর বসার ব্যবস্থা রয়েছে।
আগের তিন বছরের স্নাতক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বর্তমান চার বছরের স্নাতক শিক্ষা কাঠামো রূপান্তরের প্রেক্ষিতে এই সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে অতিরিক্ত শিক্ষাকক্ষ ও পরিকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাকাউট-এর মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক তাপস চক্রবর্তীর উপস্থিতি অনুষ্ঠানের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করে। নতুন ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বিশিষ্ট ভারতীয় ব্যক্তিত্ব ও দূরদর্শী চিন্তাবিদদের অবদান কে সম্মান জানাতে শ্রেণিকক্ষ গুলোর নাম তাঁদের নামে রাখা হয়েছে।
নতুন সম্প্রসারিত ক্যাম্পাসটি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি আরও প্রশস্ত ও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে পরিবর্তনশীল উচ্চশিক্ষা কাঠামোর অধীনে আইলিড-এর শিক্ষাগত পরিকাঠামোগত চাহিদা পূরণে ও এটি সহায়ক হবে।
নিজের বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক তাপস চক্রবর্তী আইলিড-এর নতুন শ্রেণিকক্ষ এবং উন্নত পরিকাঠামোর প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে উচ্চশিক্ষার পরিবর্তিত চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এই পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) বাস্তবায়নের ফলে স্নাতক স্তরের কোর্সের মেয়াদ তিন বছর থেকে চার বছরের কাঠামোয় পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত শিক্ষাগত চাহিদা পূরণের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরিকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি বিশেষভাবে আইলিড-এর অত্যাধুনিক শ্রেণিকক্ষ এবং আধুনিক পরিকাঠামোর প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, এই ধরনের সুযোগ-সুবিধা শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করে এবং তাঁরা যে প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁদের আগ্রহ ও গর্ব আরও বাড়িয়ে তোলে।
তিনি জগদীশচন্দ্র বসুর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে শ্রেণিকক্ষের নামকরণের উদ্যোগটিরও বিশেষ প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নিয়মিত এই নামগুলি দেখতে পেলে শিক্ষার্থীরা ওই ব্যক্তিদের সম্পর্কে, তাঁদের অবদান এবং সমাজে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে উৎসাহিত হবে।
তাঁর মতে, এটি ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকারের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করার একটি তাৎপর্যপূর্ণ উপায়। একইসঙ্গে এর মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশকে আধুনিক ও যুগোপযোগী রাখা হচ্ছে।
আইলিড-এর স্থায়িত্বের ভাবনায় গড়ে ওঠা চতুর্থ ক্যাম্পাস
নতুন ক্যাম্পাসের সেই দর্শনেরই ধারাবাহিকতা, যা প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আইলিড-এর পরিচয়ের অংশ।
আইলিড-এর বর্তমান ক্যাম্পাসটি ও এক ধরনের রূপান্তরের ফল। একসময়ের অবহেলিত একটি ট্যানারি অধিগ্রহণ করে সেটিকে আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া হয়েছিল। এর অভ্যন্তরীণ সজ্জায় প্রায় সম্পূর্ণভাবে পুনর্ব্যবহৃত ও পুনঃব্যবহারের উপযোগী করা উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুনরুদ্ধার করা কাঠের প্যানেল, টেম্পার্ড গ্লাস, ভাঙা কাচ এবং পুনর্ব্যবহৃত মিনি-ফ্রিজের কাচের প্যানেল। এ সব উপকরণ কে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করে ক্যাম্পাসের স্বতন্ত্র ও আকর্ষণীয় নান্দনিকতা তৈরি করা হয়েছে।
চতুর্থ ক্যাম্পাস একই প্রতিশ্রুতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। শূন্য কার্বন নিঃসরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ক্যাম্পাসটি নির্মাণ করা হয়েছে এবং নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর টেকসই ও সবুজ নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
এখানে রয়েছে পরিকল্পিতভাবে তৈরি শ্রব্য-দৃশ্যমান (এভি) সুবিধাসম্পন্ন স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে গড়ে ৪৫ জন শিক্ষার্থীর বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে আইলিড-এর ধারাবাহিক বিনিয়োগের প্রতিফলন ঘটেছে।

