প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বর্তমান সময়ে পেশাগত ও ব্যবহারিক দক্ষতার গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রে শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞান নয়, বাস্তব প্রজেক্টে কাজ করার অভিজ্ঞতা, শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং পেশাগত প্রস্তুতিও এখন কর্মজীবনে সাফল্যের অন্যতম প্রধান শর্ত।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই Techno Exponent-এর উদ্যোগ Euphoria GenX ২০২০ সাল থেকে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে শিল্পক্ষেত্রের উপযোগী প্রযুক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করে চলেছে।
মাত্র অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আজ হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি কলকাতার রবীন্দ্র তীর্থে অনুষ্ঠিত Euphoria GenX-এর Convocation অনুষ্ঠানে ৫,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার শংসাপত্র অর্জন করেন। পাশাপাশি, চলতি বছরের Summer Training Program-এ ১০,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে Euphoria GenX।
প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং বর্তমান আইটি ও প্রযুক্তি শিল্পে ব্যবহৃত বাস্তব পদ্ধতি, আধুনিক টুলস ও টেকনোলজি, প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং কর্পোরেট কর্মপরিবেশের জন্য প্রয়োজনীয় পেশাগত মানসিকতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ড. সব্যসাচী সাহা, অভয় দেবনাথ এবং জয়েন্দ্রিসা ঠাকুর সাহা-র উদ্যোগ, পরিশ্রম এবং দূরদর্শিতায় Euphoria GenX ধীরে ধীরে বাংলার প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট ক্ষেত্রে একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে।
তাঁদের মূল লক্ষ্য হল অ্যাকাডেমিক শিক্ষা এবং শিল্পক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা কমিয়ে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি কর্মসংস্থানযোগ্য এবং শিল্পের জন্য প্রস্তুত করে তোলা।
এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত Techno Exponent-ও ২০২০ সাল থেকে প্রযুক্তি, সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল সলিউশনের ক্ষেত্রে কাজ করে চলেছে। শিল্পক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করাই Euphoria GenX-এর অন্যতম শক্তি।
নতুন উদ্যোগ — Euphoria Academy
এই বছরের কনভোকেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হল Euphoria Academy-এর সূচনা।
Euphoria GenX-এর স্কিল ডেভেলপমেন্ট উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত এবং দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই Euphoria Academy শুরু করা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে Academy-তে Digital Marketing এবং Digital Analytics-এর উপর কোর্স চালু করা হয়েছে।
Digital Marketing কোর্সে শিক্ষার্থীরা আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্র্যান্ডিং, অনলাইন মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন এবং ক্যাম্পেইন ম্যানেজমেন্টের মতো বিষয় শেখার সুযোগ পাবেন।
অন্যদিকে Digital Analytics কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল ডেটা বিশ্লেষণ, মার্কেটিং পারফরম্যান্স পরিমাপ, কাস্টমার বিহেভিয়ার অ্যানালাইসিস, ক্যাম্পেইন অ্যানালিটিক্স এবং ডেটা-ড্রিভেন সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
আগামী দিনে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির চাহিদা অনুযায়ী Euphoria Academy-তে আরও নতুন কর্মমুখী ও আধুনিক কোর্স যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কনভোকেশন অনুষ্ঠানে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী রাহুল সিনহা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক শ্রী অজিত জানা এবং বিধায়ক শ্রী অনুপ সাহা।
এছাড়াও শিক্ষা ও শিল্পজগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।
শ্রী রাহুল সিনহা Euphoria GenX-এর উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, একটি আত্মনির্ভর এবং শক্তিশালী ভারত গড়ে তুলতে আগামী প্রজন্মকে দক্ষ ও স্বনির্ভর করে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা প্রদান করা সেই লক্ষ্য পূরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
Euphoria GenX-এর নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রেও বিভিন্ন সংস্থা এমন পেশাদার কর্মী নিয়োগ করতে চায়, যাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তির ব্যবহারিক দক্ষতা রয়েছে।
তাঁদের বক্তব্য, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের একটি কোর্স সম্পূর্ণ করানো বা শংসাপত্র প্রদান করা নয়। একজন শিক্ষার্থী যখন আমাদের কাছে আসে, তখন তাকে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের জন্য যতটা সম্ভব প্রস্তুত করে তোলাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”
তাঁরা আরও জানান, প্রযুক্তির পরিবর্তনের গতি অত্যন্ত দ্রুত। AI, Data, Digital Technologies, Automation এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রকে পরিবর্তন করছে। তাই শিক্ষার্থীদের এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে তারা ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সহজেই নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে।
Euphoria GenX-এর প্রশিক্ষিত বহু শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের পেশাগত জীবন শুরু করেছেন এবং আগামী দিনে আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রেও আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীর সুযোগ তৈরি করাই সংস্থার অন্যতম লক্ষ্য।
Euphoria GenX-এর নেতৃত্বের কথায়, “আমাদের শিক্ষার্থীরা যখন নিজেদের দক্ষতার মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। আগামী দিনে ভারত তথা বাংলার দক্ষ প্রযুক্তিবিদ ও ডিজিটাল পেশাজীবীদের মধ্যে আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রথম সারিতে জায়গা করে নিক—এটাই আমাদের স্বপ্ন।”
একদিকে চলতি বছরে ১০,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থীকে Summer Training প্রদান, অন্যদিকে Convocation-এ ৫,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থীর হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া, এবং একই সঙ্গে Digital Marketing ও Digital Analytics-এর মাধ্যমে Euphoria Academy-এর যাত্রা শুরু—সব মিলিয়ে এই বছরের কনভোকেশন Euphoria GenX-এর যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকল।
শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও আত্মনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যেই আগামী দিনে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে Euphoria GenX ও Euphoria Academy-এর।

