ভারতের পাশ্চাত্য সঙ্গীত শিক্ষার জগতে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক স্থাপিত হলো। গত ১৯শে জানুয়ারি ২০২৬ কলকাতার রাশিয়ান হাউসে রাশিয়ান ফেডারেশন সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনস্থ একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, সারাতভ স্টেট এল.ভি. সোবিনভ কনজারভেটরি এবং মিউজিসিয়া আর্টস অ্যান্ড কালচার কাউন্সিলের (ভারত) মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়।
এই যুগান্তকারী শিক্ষাগত সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ভারতীয় সঙ্গীত শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের জন্য একটি নতুন দিকের সূচনা হলো যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পাশ্চাত্য সঙ্গীত শিক্ষার সরাসরি সুযোগ তৈরি করে দিল।
এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন মিউজিসিয়া আর্টস অ্যান্ড কালচার কাউন্সিলের পরিচালক সুরেন্দ্রনাথ মজুমদার, যাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল ভারতে পাশ্চাত্য সঙ্গীত শিক্ষার জন্য একটি স্বচ্ছ, ফলাফল-ভিত্তিক এবং বিশ্বব্যাপী বিশ্বাসযোগ্য কাঠামো তৈরি করা।
তাঁর তত্বাবধানে মিউজিসিয়া ধারাবাহিকভাবে এমন কাঠামোগত শিক্ষা ব্যাবস্থা তৈরির জন্য কাজ করে চলেছে যা প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির বাইরে গিয়ে শিক্ষা পদ্ধতি, পারফরম্যান্সের মান,তার উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যাবস্থার মাপকাঠির উপর নজর রাখে।
ভারত-রাশিয়া সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সম্পর্ক দৃঢ় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি ভারত ও রাশিয়ান ফেডারেশনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়, যা সংস্কৃতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান শক্তিকে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর আলেকজান্ডার জি. জানোরিন, মিস নাতালিয়া এস. গ্রিগোরেভা,মিস একাতেরিনা পি. তিউরিনা, মিউসিয়া আর্টস অ্যান্ড কালচার কাউন্সিলের পরিচালক সুরেন্দ্রনাথ মজুমদার।
রোটারি সদনে আয়োজিত কনসার্টে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে ডিসটিংশন প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা পিয়ানো এবং বেহালায় পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সঙ্গীত পরিবেশন করে, ভারতীয় সঙ্গীত পর্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যজিৎ রায়,সলিল চৌধুরী,আর.ডি. বর্মণের কালজয়ী সৃষ্টিগুলো পরিবেশিত হয়, যা ভারতের সমৃদ্ধ সঙ্গীত ঐতিহ্যের সাথে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার সমন্বয়কে তুলে ধরে।
বিশেষ স্মরণীয় পরিবেশনায় সলিল চৌধুরীর শততম জন্মবার্ষিকী এবং ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তিকে সম্মান জানানো হয়। পরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গীত শিক্ষকদের সঙ্গীত শিক্ষায় তাঁদের অবদানের জন্য পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।


