রোটারি ক্লাব অব সল্টলেক মেট্রোপলিটন কলকাতা, রোটারি ক্লাব অব সেন্ট্রাল ক্যালকাটা এবং রোটারি ক্লাব অব গ্রিন অ্যান্ড পুটনাম কাউন্টিজ—আন্তর্জাতিক রোটারি ক্লাবসমূহ ও ‘অ্যালায়েন্স ফর স্মাইলস’-এর সহযোগিতায় যৌথভাবে ‘প্রজেক্ট মুসকান’ চালু করেছে। এটি একটি মানবিক উদ্যোগ, যার মূল লক্ষ্য জন্মগতভাবে ঠোঁট ও তালু কাটা (ক্লেফ্ট লিপ) শিশুদের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা এবং তাদের মুখে হাসি, আত্মবিশ্বাস ও নতুন আশার আলো ফিরিয়ে আনা।
এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোটারি ইন্টারন্যাশনালের প্রাক্তন ডিরেক্টর রোট্যারিয়ান অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোট্যারিয়ান তাপস ভট্টাচার্য (ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর ২০২৬-২৭), রোট্যারিয়ান ব্রতীন মল্লিক (ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর নমিনি) এবং রোট্যারিয়ান বিনোদ খৈতান (ডিজিএসসি)।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রোটারি ক্লাব অব সল্টলেক মেট্রোপলিটন কলকাতার প্রাক্তন সভাপতি ডাঃ অরুণা তাতিয়া বলেন, “প্রজেক্ট মুসকান শুধুমাত্র একটি অস্ত্রোপচার কর্মসূচি নয়; এটি শিশুদের আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা এবং আশা ফিরিয়ে দেওয়ার এক অঙ্গীকার। প্রতিটি শিশুরই কোনো দ্বিধা ছাড়া প্রাণখুলে হাসার অধিকার রয়েছে।
রোটারি এবং আমাদের চিকিৎসা সহযোগী সংস্থাগুলির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সেই স্বপ্নকেই সত্যি করতে চাই।”
‘অ্যালায়েন্স ফর স্মাইলস’-এর মিশন ডিরেক্টর রোট্যারিয়ান পিডিজি টিনা ফিঞ্চলিন বলেন, “অনিরুদ্ধর সঙ্গে কাজ করা সবসময়ই এক দারুণ অভিজ্ঞতা। দীর্ঘ বহু বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে আমরা জিএসই (GSE) টিম গঠন ও বিভিন্ন মেডিকেল মিশনের মতো বহু কার্যকর উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছি।
আজ ‘রোটারি ফাউন্ডেশন ইন্ডিয়া’-র চেয়ারপার্সন হিসেবে তাঁর এই ধারাবাহিক নেতৃত্ব দেখে আমরা গর্বিত।”
এই উদ্যোগের আওতায় ভারত ও বিদেশের বিভিন্ন রোটারি ক্লাব, চিকিৎসক দল এবং সামাজিক সংস্থাগুলি একসঙ্গে হাত মিলিয়েছে, যাতে ঠোঁট ও তালু কাটা শিশুদের প্রয়োজনীয় সংশোধনী অস্ত্রোপচারের সুব্যবস্থা করা যায়। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন রোট্যারিয়ান উৎপল মজুমদার, রোট্যারিয়ান স্কারিয়া জোসে, রোট্যারিয়ান পিডিজি টিনা ফিঞ্চলিন এবং এস.ভি.এস. মারোয়াড়ি হাসপাতালের সভাপতি শ্রী এস.ভি.এস. সেকসারিয়া।
“একটি হাসি উপহার দিন, একটি জীবন বাঁচান”—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহানুভূতি এবং সমাজসেবামূলক অঙ্গীকারের সমন্বয়ে শিশুদের জীবন বদলে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ‘প্রজেক্ট মুসকান’।

