দুর্গাপুজোর আবহে সানরাইজ স্পাইসেস, ক্রাফ্টস কাউন্সিল অব ওয়েস্ট বেঙ্গলের সহযোগিতায়, বাংলার অন্যতম প্রিয় সাংস্কৃতিক প্রতীক হাতপাখা এবং এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা কারিগরদের উদ্যাপন করছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য, বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়ে ঐতিহ্যবাহী হাতপাখার বিশেষ স্থানটিকে নতুন করে সামনে আনা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা কারুশিল্পকে সমকালীন উৎসবের সঙ্গে যুক্ত করা।
বাংলার খাবার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি ব্র্যান্ড হিসেবে সানরাইজের কাছে হাতপাখাকে উদ্যাপন করা ‘বাঙালিয়ানা’র চিরন্তন প্রতীকগুলিকে তুলে ধরার অঙ্গীকারেরই স্বাভাবিক সম্প্রসারণ। সানরাইজের সঙ্গে হাতপাখার একটি স্বতন্ত্র প্রতীকী যোগও রয়েছে। হাতপাখার ছড়িয়ে পড়া নকশা সানরাইজের পরিচিত লোগোর মোটিফের সঙ্গে দৃশ্যত সাযুজ্য তৈরি করে, যা ব্র্যান্ড ও এই ঐতিহ্যবাহী উপকরণের মধ্যে এক স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।
একসময় বাঙালি পরিবারের ঘরে ঘরে হাতপাখা ছিল এক পরিচিত অনুষঙ্গ। উষ্ণতা, আতিথেয়তা এবং একসঙ্গে থাকার অনুভূতির প্রতীক হিসেবেও এটি দীর্ঘদিন ধরে জায়গা করে নিয়েছে। সময়ের সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহার বদলালেও, বাংলার সম্মিলিত স্মৃতিতে হাতপাখার স্থান আজও বিশেষ। এই সহযোগিতার মাধ্যমে সানরাইজ স্পাইসেস সেই সব কারিগরের গল্পকে উৎসবের আলোয় নিয়ে আসছে, যাঁরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক জ্ঞানের উত্তরাধিকার বহন করে এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।
এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বাংলার শিল্প-ঐতিহ্যের চিরন্তন প্রকাশ হিসেবে হাতপাখাকে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে ক্রাফ্টস কাউন্সিল অব ওয়েস্ট বেঙ্গলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বাংলার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, ক্রাফ্টস কাউন্সিল অব ওয়েস্ট বেঙ্গলের সহায়তায় সংগ্রহ করা হাতপাখা ফ্যাশন, গল্পকথন এবং মানুষের অংশগ্রহণভিত্তিক বিভিন্ন দুর্গাপুজো আয়োজনে জায়গা পাবে। কারিগরদের কর্মশালা থেকে হাতপাখাকে দুর্গাপুজোর আচার-অনুষ্ঠানের কেন্দ্রে নিয়ে এসে, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন তার চিরস্থায়ী সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকে উদ্যাপন করছে, তেমনই সমকালীন দর্শকের কাছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে নতুনভাবে পরিচিত করাচ্ছে।
এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে সুরেশ চাঁদ, বিজনেস হেড, সানরাইজ স্পাইসেস, আইটিসি লিমিটেড বলেন, “বাঙালি পরিচয় শুধু তার বৃহৎ উৎসব ও ঐতিহ্যের মধ্যেই বেঁচে থাকে না; বরং দৈনন্দিন জীবনের সেই সব সাধারণ অনুষঙ্গ ও আচারেও থাকে, যেগুলি নীরবে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে স্মৃতি বয়ে নিয়ে যায়। ক্রাফ্টস কাউন্সিল অব ওয়েস্ট বেঙ্গলের সঙ্গে এই সহযোগিতার মাধ্যমে সানরাইজ এমনই এক চিরন্তন প্রতীকের নেপথ্যের কারুশিল্পকে উদ্যাপন করছে এবং নতুন প্রজন্মকে সমকালীন প্রেক্ষিতে সেটিকে আবার আবিষ্কার করতে উৎসাহিত করছে।”
এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে ঐন্দ্রিলা দত্ত, ভাইস প্রেসিডেন্ট, ক্রাফ্টস কাউন্সিল অব ওয়েস্ট বেঙ্গল বলেন, “হাতপাখার মধ্যে রয়েছে বহু প্রজন্মের দক্ষতা ও শিল্পভাবনার ছাপ। হাতে তৈরি প্রতিটি পাখায় তার কারিগরের জ্ঞান ও সৃজনশীলতা ধরা থাকে। সানরাইজ স্পাইসেসের সঙ্গে আমাদের এই সহযোগিতা সেই কারুশিল্পকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার এবং সমকালীন বাংলায় ঐতিহ্যবাহী শিল্পরূপগুলির প্রতি আরও গভীর সম্মান ও আগ্রহ তৈরি করার সুযোগ এনে দিয়েছে।”
এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে অভিষেক রায়, বিশিষ্ট ফ্যাশন ডিজাইনার ও রয় ক্যালকাটার প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “একটি সাধারণ আকারের মধ্যে এত স্মৃতি ও পরিচয় কীভাবে ধরা থাকতে পারে, সেটিই আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে। হাতপাখা ও সানরাইজের লোগো যেন একই দৃশ্যভাষায় কথা বলে। তাই এই ফ্যাশন সহযোগিতাকে একেবারে নতুন কিছু তৈরি করার চেয়ে, বরং এমন একটি যোগসূত্রকে খুঁজে পাওয়ার মতো মনে হয়েছে, যা সবসময়ই সেখানে ছিল।”
এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত বলেন, “সিনেমা আমাদের শেখায়, কিছু প্রতীকের আলাদা করে পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। হাতপাখা তেমনই একটি প্রতীক। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঘর, উৎসব আর শৈশবের উষ্ণ স্মৃতি। আর যখন তা সানরাইজের সঙ্গে মিলিত হয়, যে নাম প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালির রান্নাঘরে রয়েছে, তখন তৈরি হয় একেবারে খাঁটি বাঙালি একটি গল্প।”
এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে মেঘদূত রায়চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও চিফ ইনোভেশন অফিসার, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ এবং মেক ক্যালকাটা রেলেভ্যান্ট এগেইনের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “নিজের শিকড়কে আঁকড়ে রেখেও সেই শিকড়কে প্রকাশের ভাষাকে ক্রমাগত নতুন করে তোলার ক্ষমতাই বাংলাকে বিশেষ করে। সমকালীন জীবনে গভীরভাবে পরিচিত অথচ অনেক সময় উপেক্ষিত সাংস্কৃতিক প্রতীকগুলিকে ঘিরে সানরাইজের মতো ব্র্যান্ড নতুন করে আলোচনা তৈরি করছে, এটি সত্যিই উৎসাহজনক।”
দুর্গাপুজোর উদ্যাপনের কেন্দ্রে হাতপাখাকে ফিরিয়ে এনে সানরাইজ স্পাইসেস এবং ক্রাফ্টস কাউন্সিল অব ওয়েস্ট বেঙ্গল চায়, বাংলার এই অনন্য কারুশিল্প বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের কাছে গর্ব, সংযোগ এবং সাংস্কৃতিক সচেতনতার উৎস হয়ে থাকুক।

