বাংলাদেশের ফরিদপুর নিবাসী মৌলিক পরিবারে দুর্গা পূজোর বয়স প্রায় ৩০০ বছরের কাছাকাছি ( পূর্বপুরুষের নাম দেবিঘটের খোদাই করা দেখে ওই আন্দাজ করা যায়)।
দেশ ভাগের সময় স্বর্গীয় পরেশ নাথ মৌলিক কেবল মাত্র দেবিঘট ও ৩০০ বছরের পুরনো বরাহোদন্ত নারায়ানশিলা ছাড়া আর কিছু নিয়ে কাটা তার পেরোতে পারেননি ।
পূর্ব বঙ্গের নিয়ম অনুসারে গণেশ ও সরস্বতী মায়ের বাম পাশে আর লক্ষ্মী আর কার্তিক মায়ের ডান পাশে এই ভাবেই প্রতিমার রূপদান করে আসা হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে।
কলা বউ অবস্থান করে মায়ের ডান দিকে কার্তিক এর পাশে। কলা বউ স্নান থেকে সন্ধি পুজো নবমীর হোম থেকে নবমীতে বোয়াল মাছের ভোগ ( অধিক ৯ কিলো) সবই এই পুজোর অঙ্গ। দশমীতে কচু শাক ও পান্তা দিয়ে মায়ের দশমীর ভোগ হয় পূর্ববঙ্গের রিতি অনুযায়ী দশমীর দুপুরে পুটি মাছ দুপুরের খাবারে থাকা আবশ্যক ।
বর্তমান প্রজন্মে স্বর্গীয় পরেশ নাথ মৌলিক এর পৌত্র দেবমাল্য মৌলিক রাজপুরে নিজ বাসগৃহে এই পুজোর আয়োজন করেন ।
এই বাসন্তী দুর্গা পুজোকে কেন্দ্র করে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় থেকে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, কৌশিক গাঙ্গুলী থেকে স্বস্তিকা মুখার্জী এছাড়া একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি দেখা যায় এই বাড়িতে। পরিবার ও রাজপুড়ের অধিবাসীবৃন্দের উপস্থিতিতে আনন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপুর লেবুতলার আকাশ ও বাতাস। দেবমাল্য মৌলিক জানালেন, ” বাসন্তী পুজো আমাদের পরিবারের এক ঐতিহ্য, বাঙালিদের উৎসব গুলোর মধ্যে অন্যতম উৎসব। বংশানুক্রমে চলে আসা এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার আনন্দ অকল্পনীয়।”


