ভারতের মাতৃত্বকালীন পরিচর্যার চালচিত্রে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন ঘটছে। আগের চেয়ে বেশি সংখ্যক মহিলা বিধিবদ্ধ, প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যার নাগাল পাচ্ছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ৮৮-৯০ শতাংশের বেশি শিশুর জন্ম এখন প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশে হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি ২০২৩-২৪ সালে ৯৭.৩ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা বিধিবদ্ধ, হাসপাতালভিত্তিক মাতৃত্ব পরিচর্যার দিকে সুস্থায়ী পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ২০২৫ সালে প্রকাশিত সরকারি তথ্যে আরও দেখা গেছে যে ২০২৪-২৫ সালে ভারতে যত জন্ম হয়েছে তার ২৭ শতাংশের বেশি ছিল সি-সেকশন প্রসব। এ থেকে মেডিকালি নিবিড় মাতৃত্ব পরিচর্যার দিকে ক্রমপরিবর্তন আরও পরিষ্কার হয়।
এই প্রেক্ষিতে কেয়ার হেলথ ইনশিওরেন্স মহিলাদের হেলথ ক্লেমের স্পষ্ট সম্প্রসারণকে চিহ্নিত করেছে। আকারে এবং নিবিড়তায়, দুদিক থেকেই বেড়েছে। মহিলাদের স্বাস্থ্য বিমা ক্লেম ২০২৫ আর্থিক বর্ষ থেকে ২০২৬ আর্থিক বর্ষে ৩৭% বেড়েছে। ২০-৪০ বছর বয়সীরা এই বৃদ্ধিকে এখনো চালিত করছে। এই কালপর্বে তাদের বিমা বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি।
একই সময়ে মাতৃত্ব সংক্রান্ত ক্লেমগুলো আরও খরচসাপেক্ষ হয়ে উঠেছে। টিয়ার ২ আর টিয়ার ৩ শহরগুলো সামগ্রিক ক্লেমের বৃহত্তর শেয়ার পেতে থাকবে। ফলে কোম্পানির কাছে আসা যাবতীয় ম্যাটার্নিটি ক্লেমের ৬০ শতাংশই ওইসব অঞ্চলের।
মা হওয়ার বয়সেও একটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ আর্থিক বর্ষে ৩৫ বছরের বেশি বয়সী মহিলারা মোট ম্যাটার্নিটি ক্লেমের ১২% ক্লেম করেছিলেন, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি এবং বাড়ছে। এই বয়সের খরচ সামগ্রিক ক্লেম অ্যামাউন্টের ১৮% ছিল। এ থেকে বেশি বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হলে খরচ বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সামগ্রিক ম্যাটার্নিটি ক্লেম আউটগো গত দুবছরে ২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যদিও ক্লেমের পরিমাণ ওঠানামা করেছে। এ থেকে কেস পিছু খরচ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
প্রসব ক্রমশ বেশি বেশি করে প্রাতিষ্ঠানিক এবং আরও দক্ষ হয়ে উঠছে। মাতৃত্ব পরিচর্যা থেকে পাঁচদিনের মধ্যে ছাড়া পাওয়া মহিলার অনুপাত ২০২৪ আর্থিক বর্ষের ৭৫% থেকে বেড়ে ২০২৬ আর্থিক বর্ষে ৮২% হয়ে গেছে। ছাড়া পাওয়ার এই সময়কাল খরচ কমাচ্ছে না, বরং কোম্পানি লক্ষ করেছে যে মাতৃত্ব পরিচর্যার খরচ বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে এই প্রবণতাগুলো মাতৃত্ব পরিচর্যায় এক কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। খরচের ক্রমশ বৃদ্ধি এবং পরিচর্যার বদলাতে থাকা প্যাটার্ন আরও বেশি আর্থিক এক্সপোজারকে চালিত করছে। এই ফলাফল আরও বেশি করে প্রমাণিত হয়ে বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য তথ্য থেকে। সেখান থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে ভারতের বেশিরভাগ মহিলা বিধিবদ্ধ প্রসবোত্তর পরিচর্যা পরিষেবা গ্রহণ করছেন, পাশাপাশি চারজনের মধ্যে তিনজন অপর্যাপ্ত খাওয়াদাওয়াতেই চলছেন। এতে পুষ্টির লাগাতার অভাব এবং মাতৃত্বের বাইরেও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা চিহ্নিত হয়।
এই ফলাফল সম্পর্কে মনীশ দোদেজা, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অ্যান্ড চিফ বিজনেস অফিসার, কেয়ার হেলথ ইনশিওরেন্স, বললেন “মহিলাদের স্বাস্থ্য বিমার ক্লেমগুলো আর কোনো সরলরৈখিক বৃদ্ধির প্যাটার্ন মেনে চলছে না; আকার আর তীব্রতা, দুদিক থেকেই বাড়ছে। খরচ লাগাতার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাতৃত্বের চালচিত্রে আমরা পরিষ্কার পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। পরিচর্যার পথ আরও দক্ষ হচ্ছে, মাতৃত্ব পরিচর্যার সঙ্গে জড়িত আর্থিক এক্সপোজারও বাড়ছে। এ কেবল বিমা কাজে লাগানোর প্রবণতা নয়; এর মধ্যে দিয়ে দেখা যাচ্ছে, মহিলারা আজকের দিনে কীভাবে স্বাস্থ্য পরিচর্যার নাগাল পাচ্ছেন এবং তার অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তির নিয়মিত ব্যবধানে তাঁদের কভারেজের নতুন করে মূল্যায়ন করা জরুরি, যাতে তাঁদের বদলাতে থাকা প্রয়োজনের সঙ্গে বিমার সঙ্গতি থাকা নিশ্চিত করা যায়।”
মাতৃত্ব পরিচর্যা যত বিধিবদ্ধ হবে এবং তার ব্যবহার বাড়বে, আর্থিক এক্সপোজার সামলানোর জন্যে পর্যাপ্ত ও সময়োচিত স্বাস্থ্য বিমা কভারেজ নিশ্চিত করা এবং বিরামহীন পরিচর্যা নিশ্চিত করা জরুরি।

